কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয় 2025?
কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয় এটি আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত? কোরবানি মূলত হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে পালন করা হয়। তাই কোরবানি পশু কেনার সময় উক্ত পশু নিখুঁত হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু দিন লক্ষ্য রাখতে হয়।
ঈদ-উল-আযহা এর একটি বড় অংশ হচ্ছে কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করতে হয়। তাই কোরবানির পশু নিখুঁত হওয়ার পাশাপাশি শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন করা। পশুর বয়স শারীরিক অবস্থা, আরো কিছু নির্দিষ্ট দিক রয়েছে যেগুলো লক্ষ্য রেখে পশু ক্রয় করতে হয়।
পশু কেনার আগে এর শরীরের কোথাও ক্ষত আছে কিনা পরীক্ষা করে নিতে হবে? শিং ভাঙা আছে কিনা, লেজ, মুখ, দাঁত, খুর এসব কিছুই পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, কোনো ত্রুটি চোখে পড়ে কিনা। এসব কিছু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে খুব সহজেই সুস্থ পশু কেনা অনেক সহজ হবে।
কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয়?
কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? কেননা ঈদ-উল আযহা এর অন্যতম দিক হচ্ছে কোরবানি। তাই কোরবানির পশু যদি ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক না হয় তাহলে কোরবানি আল্লাহ তায়ালার কাছে গ্রহণ যোগ্য নাও হতে পারে। কোরবানির পশু ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই ইসলামি শরিয়ত সম্পূর্ণ কিনা তা যা যাচাই করে নিতে হবে। অর্থাৎ কোরবানির পশু, শারীরিক গঠন ও আকৃতি সহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো যাচাই করে পশু ক্রয় করতে হয়।
কোরবানির পশু কেনার সময় সর্বপ্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে উক্ত পশুটির বয়স ঠিক আছে কিনা। গরু বা মহিষ কমপক্ষে ২ বছর, ছাগল বা ভেড়া কমপক্ষে ১ বছর এবং উটের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে। কীভাবে পশুর দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা যায় সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে স্বাস্থ্য, শারীরিক গঠন ও আচরণ। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য? চোখ, নাক, মুখ, চামড়া ও পায়ের খুর ইত্যাদি দেখে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে পারেন।
কোরবানির জন্য জায়েজ পশু নির্বাচন পদ্ধতি?
কোরবানির জন্য জায়েজ পশু নির্বাচন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়? কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করা। তাই কোরবানির পশুটি যদি জায়েজ না হয় তাহলে কোরবানি কবুল নাও হতে পারে। ঠিক এই কারণে আমাদের কোরবানির জন্য জায়েজ পশু নির্বাচন পদ্ধতি জানতে হবে। কোরবানির পশু হিসেবে গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পশু ব্যবহার করা যায়। তবে এই পশুগুলোর কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকতে হয় যাতে সেগুলো কোরবানির জন্য উপযুক্ত হয়। এখন আমরা এই বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে জানবো।
কোরবানির পশুর নির্দিষ্ট বয়স গরু বা মহিষ কমপক্ষে ২ বছর, ছাগল বা ভেড়া কমপক্ষে ১ বছর এবং উঠের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। আপনি যেই পশু নির্বাচন করেন না কেন পশুর স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে সেই পশু ক্রয় না করাই ভালো। কোরবানির পশুর চোখ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকতে হবে। পশুর চোখে কোনো স্রাব বা অস্বচ্ছতা থাকলে সেই পশু না কেনাই ভালো। এরপর যে বিষয়টি দেখতে হবে সেটি হচ্ছে নাক ও মুখ। মাক ও মুখে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।
উপরে দেওয়া শারীরিক বৈশিষ্ট্য এর পাশাপাশি পায়ে আঘাত? খোঁড়া ভাব বা রোগের লক্ষণ থাকলে সেই পশু ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও পশুর চামড়ায় যদি কোনো সমস্যা যেমনঃ ক্ষত, ঘা বা চর্মরোগ থাকলে সেই পশুটি কোরবানির জন্য জায়েজ হবেনা। এরপর যে পশুটি কোরবানির জন্য ক্রয় করবেন সেই পশুর ওজন ও শারীরিক গঠন উপযুক্ত হতে হবে। শিং, কান, লেজ ইত্যাদি অঙ্গ অক্ষত ও সঠিকভাবে থাকতে হবে। পশুর শরীরে কোনো ক্ষত বা ত্রুটি থাকলে সেই পশু কোরবানির জন্য জায়েজ নয়। কোরবানির পশু অবশ্যই নিখুঁত ও শারীরিক গঠন উপযুক্ত হতে হবে।
দাঁত দেখে পশুর বয়স নির্ধারণ করার উপায়?
দাঁত দেখে পশুর বয়স নির্ধারণ করা এই পদ্ধতিটি অনেক প্রচলিত একটি পদ্ধতি? সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি গবাদি পশুর দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে পশুর ধরন অনুযায়ী দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করার উপায়ও আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গরু ও ছাগলের দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা পদ্ধতি একই হলেও উট এর দাঁত দেখে বয়স নির্বাচন পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। এখন আমরা কীভাবে পশুর দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করতে হয় এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
গরুর বয়স নির্ধারণের জন্য সাধারণত তাদের সামনের দাঁত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে? গরু জন্মের সময়ে বা বাছুরের কোনো দাঁত থাকে না। গরুর সাধারণত ১ বছর থেকে ১ বছর ৫ মাসের মধ্যে সকল দুধ দাঁত উঠে যায়। আর ২ বছরের মধ্যে গরুর স্থায়ী দাঁত উঠে যায়। সাধারণত গরুর সামনের দুটি স্থায়ী দাঁত থাকলে গরুর বয়স ২ বছর বলে ধরা হয়। অপর দিকে অপর দিকে ছাগল বা ভেড়ার সামনে যদি এক জোড়া স্থায়ী দাঁত থাকে তাহলে বয়স প্রায় ১ বছর থেকে ১.৫ বছর বলে ধরা হয়। আর যদি দুই জোড়া স্থায়ী দাঁত থাকে তাহলে বয়স ২ বছর ধরা হয়।
উট একটি ভিন্ন দেশিও প্রাণী হওয়ার পাশাপাশি এর দাঁতের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণে দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করাও একটি জটিল বিষয়। উটের দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা একটি জটিল ও কঠিন বিষয় হওয়ার কারণে এর জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। সাধারণত প্রত্যেক উটের দুধের দাঁত ছোট ও সাদা প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং স্থায়ী দাঁত তুলনা মূলক বড় কিছুটা হলদে প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাই উটের স্থায়ী দাঁতের জোড়া সংখ্যা কতটা আছে সেটি গুনে উটের বয়স নির্ধারণ করতে হবে। সেই সাথে যদি লক্ষ্য করেন উটের দাঁত গুলো ক্ষয় বা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে তাহলে বুঝতে হবে উটটি বয়স্ক।
পশুর শারীরিক ত্রুটি যাচাই করার সহজ উপায়?
আপনি যদি কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু ক্রয় করতে চান তাহলে অবশ্যই পশুর শারীরিক ত্রুটি যাচাই বাছাই করে পশু ক্রয় করতে হবে। কোরবানির পশুর যদি কিছু শারীরিক ত্রুটি থাকে তাহলে সেই পশুটি কোরবানির জন্য জায়েজ হবে কিনা এটি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই আমাদের সব সময় শারীরিক ত্রুটি ছাড়া নিখুঁত পশু ক্রয় করার চেষ্টা করতে হবে। এখন আমরা এমন কিছু পশুর শারীরিক ত্রুটি তুলে ধরবো যেগুলো কোনো পশুর মধ্যে থাকলে সেই পশু ক্রয় না করা উত্তম সিদ্ধান্ত হবে।
স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে এমন পশু ত্রুটি যুক্ত।
- চোখ লাল, ঝাপসা বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।
- কানে অতিরিক্ত ময়লা, পোজ ইত্যাদি সমস্যা থাকা।
- নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে বা নাক ফোলা থাকা।
- মুখ, জিহব্বা, দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া বা মুখ অস্বাভাবিক ফোলা।
- পায়ের খুরে ইনফেকশন, খুড়া বা হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে।
- পিঠ অতিরিক্ত ফোলা বা অস্বাভাবিক আকারে বড়।
- পশু স্বাভাবিক খাবার না খাওয়া বা অস্বাভাবিক ভাবে বেশি খাওয়া।
- পশুর চামড়া ক্ষত, লোম ঝরে যাওয়া, অতিরিক্ত মাঝি লেগে থাকা।
- পশু যদি অস্বাভাবিক কোনো কার্যকলাপ করে থাকে তাহলে সেই পশু ত্রুটিযুক্ত।
কোরবানি পশু ক্রয়ের ভালো বাজার বা হাট নির্বাচন কৌশল?
কোরবানি পশু ক্রয়ের ভালো বাজার বা হাট নির্বাচন করার জন্য সব চেয়ে সেরা উপায় হচ্ছে ভালো সুনাম রয়েছে এমন হাত বেছে নেওয়া। কারণ পশু ক্রয় অথবা বিক্রয় করার জন্য সকল বাজারেই খাজনা বা এক প্রকার কর দিতে হয়। এটি বাজার ও এলাকা ভিত্তিতে আলাদা রকম টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক সময় এই খাজনা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তাই পশু ক্রয় করার জন্য এমন বাজার নির্বাচন করতে হবে যে সেই বাজারের সুনাম রয়েছে।
এরপর যে দিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে এমন বাজার বা হাত নির্বাচন করতে হবে যাতে যাতায়াতের সুবিধা হয়। কেননা আমরা জানি কোরবানির পশু বেশি ভাগ ক্ষেত্রে গরু অথবা মহিষ বা উট এই জাতীয় পশু হয়ে থাকে। নতুন জায়গায় পশু স্বাভাবিক ভাবেই একটু অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। যার ফলে পশুকে আয়ত্তে আনা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এমন বাজার নির্বাচন করতে হবে যাতে পশু নেওয়ার মতো যানবাহন সরাসরি বাজারের আশে পাশে নিয়ে যাওয়া যায়? এই ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য।
হালাল ও শুদ্ধ উপায়ে লালিত পশু চেনার কৌশল?
কোরবানির জন্য হালাল ও শুদ্ধ উপায়ে লালিত পশু ক্রয় করতে হবে? কেননা ঈদ-উল-আযহার দিনে আমরা সকলে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য তার নামে যে পশুটি কোরবানি করবো। সেই পশু অবশ্যই হালাল ও শুদ্ধ উপায়ে লালিত পালিত হতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তাদের নিজেদের লাভের আশায় পশুকে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে লালন পালন করে। যার ফলে বয়সের তুলনায় অল্প দিনে পশু অনেক স্বাস্থ্যবান হয়। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তাই এই অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাঁচতে হালাল ও শুদ্ধ উপায়ে লালিত পশু চেনার কিছু কৌশল জানবো।
প্রথমে পশুর দাঁত দেখে বয়স অন্দাজ করতে হবে। এরপর বয়সের সাথে পশুটির স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার পরিচিত কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে যেতে পারেন। যদি বয়সের সাথে স্বাস্থ্য ঠিক না থাকে তাহলে সেই পশু ক্রয় থেকে এড়িয়ে চলুন।
এরপর পশুটিকে কোন ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়েছিলো শুরু থেকে এই সকল তথ্য জানুন। এরপর পশুর আচরণ লক্ষ্য করুন। যদি পশুটি অতিরিক্ত শান্ত বা উত্তেজিত মনে হয় তাহলে বুঝতে হবে পশুকে হালাল উপায়ে লালন পালন করা হয়নি। সব থেকে ভালো হয় যদি কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে পশু ক্রয় করার জন্য সাথে নিয়ে যাওয়া হয়।
কোরবানি করা ফরজ নাকি সুন্নত?
প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব? ওয়াজিব হচ্ছে ফরজের নিচের ধাপ। ওয়াজিব হচ্ছে এমন কাজ যা করতেই হবে আর যদি না করেন তাহলে পাপ হবে কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ফরজ নয়। বরং ফরজের নিচের ধাও হচ্ছে ওয়াজিব। হানাফি মাজহাব অনুসারে যদি কোনো ব্যক্তির নিচে দেওয়া কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ রুপে থাকে তাহলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে। উক্ত বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে-প্রথমে মুসলিম হতে হবে।
- প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
- সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে।
- নিজ এলাকায় অবস্থান করতে হবে।
- ৭.৫ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপার সমপরিমান সম্পদের অধিকারি হতে হবে।
উপরের দেওয়া বৈশিষ্ট্য যদি সম্পূর্ণ কোনো ব্যক্তির মধ্যে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে। অর্থাৎ সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। এছাড়াও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন - যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। ( ইবনে মাজাহঃ ৩১২৩ ) এই হালিসটি দ্বারা আমরা বুঝতে পারছি কোরবানি করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত? তাই আমাদের প্রত্যকে সামর্থবান ব্যক্তিদের উচিত কোরবানি দেওয়া।
কোরবানির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তাৎপর্য?
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা ত্যাগ, ভক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতীক? এর সূচনা ঘটে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সময় থেকে। আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে স্বপ্নে তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করার নির্দেশ দেন। স্বপ্নটি কয়েকবার দেখা হলে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বুঝলেন এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। তিনি দ্বিধাহীনভাবে আল্লাহর আদেশ পালন করতে প্রস্তুত হন। পুত্র ইসমাইল (আঃ) কোরবানির জন্য নিজেও রাজি হন এবং তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে বলেন এবং নিজেকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য কোরবান করতে প্রস্তুত হলেন।
যখন তিনি ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করতে উদ্যত হলেন ঠিক তখন আল্লাহ তায়ালা একটি বড় দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে ইব্রাহিম (আঃ) এর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া হলো মুসলিম জাতির জন্য চিরন্তন উদাহরণ। এই ঘটনার স্মরণেই মুসলিমরা প্রতি বছর কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করে। কোরবানি শুধু পশু জবাই নয় বরং এটি একজন মুমিনের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। এতে ধনী ও গরিবের মাঝে সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়।কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়।
এই ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুসলিম আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করে? আল্লাহ তায়ালা কোরবানির মাংস বা রক্ত চান না বরং তিনি চান বান্দার মন থেকে করা নিয়ত ও তাকওয়া। তাই কোরবানি আমাদের শেখায় শুধু দুনিয়াবি বস্তু নয় প্রয়োজন হলে আমরা আল্লাহর রাস্তায় প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতেও প্রস্তুত। মূলত এটিই ছিলো কোরবানির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তাৎপর্য।
কোরবানির পশু কেনা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ কোরবানি অর্থ কি?
উত্তরঃ আরবি ভাষা কুরবান থেকে কোরবানি শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হল নৈকট্য অর্জন করা বা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে কিছু ত্যাগ করা।
প্রশ্নঃ ইসলামী পরিভাষায় কোরবানি বলতে কি বোঝায়?
উত্তরঃ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা যা মূলত ত্যাগ, ভক্তি ও আল্লাহর আদেশ পালনের প্রতীক। একেই মূলত কোরবানি বলে।
প্রশ্নঃ কোরবানির জন্য কোন ধরনের পশু উপযুক্ত?
উত্তরঃ কোরবানির পশু হিসেবে গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পশু উপযুক্ত।
প্রশ্নঃ কুরবানি কি ফরজ?
উত্তরঃ কোনো ব্যক্তির যদি নিসাব পরিমাণ অর্থ থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির প্রতি কোরবানি করা ওয়াজিব।
প্রশ্নঃ কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কয়টি?
উত্তরঃ কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত গুলো হচ্ছেঃ
- প্রথমে মুসলিম হতে হবে।
- প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
- সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে।
- নিজ এলাকায় অবস্থান করতে হবে।
- ৭.৫ তোলা সোনা বা ৫২.৫ তোলা রূপার সমপরিমান সম্পদের অধিকারি হতে হবে।
প্রশ্নঃ কোরবানি করার সময় কখন?
উত্তরঃ ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ। ঈদুল আযহার প্রথম দিন ঈদের নামাজের পর থেকে এবং ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত সময়ে কোরবানি করতে হয়।
প্রশ্নঃ রাতের বেলা কোরবানি করা যায়?
উত্তরঃ রাতের বেল কোরবানি করা জায়েয হলেও দিনে কোরবানি করা উত্তম ও সুন্নত।
প্রশ্নঃ ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যায় কি?
উত্তরঃ ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করলে অগ্রহণযোগ্য অর্থাৎ কোরবানি হবে না।
কোরবানির সুস্থ পশু চেনার উপায়, অসুস্থ গরু থেকে সাবধান
একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪, ০৭:২২ পিএমআপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০৭:৩৬ পিএম
ফাইল ইমেজ।
আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির জন্য দেশে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে? সরকারের হিসাবে, এবারে চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি। তবে এত পশুর ভিড়েও কোরবানির সুস্থ পশু চেনার উপায় নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।
কোরবানির ঈদের সময় দেশে সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হয়? এরমধ্যে সিংহভাগই গরু ও ছাগল। বিরাট এই বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লাগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম উপায়ে স্টেরয়েড জাতীয় হরমোন প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করে তারা।
অল্প সময়ে বেশি মুনাফার আশা পশু মোটাতাজা করতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়? যা হার্ট ও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অসুস্থ পশুর মাংস খেলে শরীরে মারাত্মক ব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে। তাই পশু বিশেষ করে গরু কেনার সময় মাথায় রাখতে হবে যে, মোটা মানেই কিন্তু সুস্থ নয়।
কোরবানির জন্য সুস্থ পশু চেনা যদিও কঠিন, তবে সামান্য খোঁজ রাখলেই অসুস্থ পশু চিহ্নিত করা যায় খুব সহজে? এক্ষেত্রে কোরবানির গরু কেনার সময় অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে রাখলে খুব ভালো হয়।
পশুর বয়সও গুরুত্বপূর্ণ?
আবার কোরবানির গরুর জন্য বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? এক্ষেত্রেও ক্রেতাদের অনেক সময় প্রতারিত করেন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই বিভ্রান্তি এড়াতে দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করেন? তবে অভিজ্ঞ কেউ সঙ্গে থাকলে খুব ভালো হয়।
কোরবানির গরুর বয়স হতে হবে কমপক্ষে দুই বছর? সাধারণত এটা দাঁত দেখে এটা বুঝতে করেন অনেকেই। দুই দাঁত হলেই ধরা হয় বয়স হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হতে পারে। ছাগল কোরবানির জন্য কমপক্ষে এক বছর বয়স হতে হবে। আর উটের বয়স হতে হবে কমপক্ষে পাঁচ বছর।
কোরবানির সুস্থ পশু চেনার উপায়?
কোরবানির সুস্থ গরু চেনার উপায় নিয়ে সরকারের প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে বেশকিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো মাথায় রাখলে এক নজরে সুস্থ গরু চেনা সম্ভব? কোরবানির পশু কেনার সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:
- পশু সর্বদাই লেজ নাড়িয়ে মশা-মাছি তাড়াতে ব্যস্ত থাকবে ও কিছুক্ষণ পর পর নড়াচড়া করবে।
- খাবার দিলে তা স্বাভাবিকভাবে খাবে ও অবসর সময়ে জাবর কাটবে।
- চোখ বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে।
- নাকের নিচের কালো অংশ (মাজল) ভেজা ভেজা থাকবে, মনে হবে যেন ফোঁটা ফোঁটা শিশির জমেছে।
- সুস্থ গরুর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।
- শ্বাসপ্রশ্বাস থাকবে স্বাভাবিক, অস্বস্তিতে ছটফট করবে না।
- গরু-মহিষের ক্ষেত্রে বয়স দুই বছরের বেশি এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি হতে হবে।
- সম্ভব হলে পশুর প্রস্রাব ও গোবর স্বাভাবিক কি না তা যাচাই করতে হবে।
- গর্ভবতী পশু কোরবানি দেওয়া যায় না। তাই কেনার আগে সেটা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
- সুস্থ পশুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হয়, তাই এটি দেখে নিতে হবে।
- সুস্থ গরুর গায়ের রং চকচকে থাকবে, কুঁজ মোটা থাকবে, চামড়া টানটান থাকবে এবং চামড়ায় কোনো দাগ থাকবে না।
- সুস্থ গরুর গায়ে স্পর্শ করলে সে স্থানে প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।
কোরবানির অসুস্থ গরু চেনার উপায়?
কীভাবে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা অথবা অসুস্থ গরু চেনা যায় তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।
ডেক্সামেথাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন জাতীয় ওষুধ সেবন করিয়ে অথবা ডেকাসন, ওরাডেক্সন স্টেরয়েড জাতীয় ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের হরমোন যেমন ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন, টেস্টোস্টেরন প্রয়োগ করেও গরুকে মোটাতাজা করা হয়।
কৃত্রিম মোটাতাজা গরুর শরীরে চাপ দিলে মাংস দেবে যায়
গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি খামারিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়? তবে অসাধু খামারিরা স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার জন্য স্টেরয়েড ও বিভিন্ন ক্ষতিকর হরমোনের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজা করে থাকে। এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করা হয় গরুর ওপর। এসব পশুর মাংস খেলে শরীরে হতে পারে ভয়ঙ্কর নানা রোগ।
কোরবানির পশু কেনার সময় যে চার বিষয় অবশ্যই দেখবেন?
কোরবানির যেহেতু একটি ইবাদত, তাই কোরবানির পশু কেনার সময় শরিয়ত নির্ধারিত চারটি ত্রুটির দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। এগুলো হলো-
১। চোখে স্পষ্ট ত্রুটি থাকা: চোখ একেবারে কোটরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা বোতামের মত বের হয়ে থাকা কিংবা এমন সাদা হয়ে যাওয়া? এতে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে চোখে সমস্যা আছে। এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়।
২। সুস্পষ্ট রুগ্নতা: যে রোগের প্রতিক্রিয়া পশুর উপরে ফুটে উঠে। যেমন- জ্বর হওয়া যার ফলে পশু ঘুরতে বের হতে চায় না ও খাবারে তৃপ্তি পায় না। এমন চর্মরোগ যা পশুর গোশত নষ্ট করে দেয় কিংবা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এমন পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না।
৩। স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া: যার ফলে পশুর স্বাভাবিক হাঁটা-চলা ব্যাহত হয়। এমন পশু কোরবানি হবে না।
৪। জীর্ণ-শীর্ণতা: দেখতে অসুস্থ, জীর্ণ-শীর্ণ, রোগক্রান্ত, হাড্ডিসার - এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়।
কোরবানির জন্য সুস্থ পশু চেনার উপায়?
মোটা গরু মানেই কিন্তু সুস্থ গরু নয়। কোরবানির গরু কেনার সময় অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিবেন, যিনি সুস্থ গরু দেখে চিনতে পারেন। এক্ষেত্রে গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে। সাধারণত এটা আমরা দাঁত দেখে বুঝতে পারি। ছাগলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর বয়স হতে হবে। উটের ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। কোরবানির পশু ক্রয়ে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে? তা হলো-
- ১। পশু সর্বদাই লেজ নাড়িয়ে মশা-মাছি তাড়াতে ব্যস্ত থাকবে ও কিছুক্ষণ পর পর নড়াচড়া করবে।
- ২। খাবার দিলে তা স্বাভাবিকভাবে খাবে ও অবসর সময়ে জাবর কাটবে।
- ৩। চোখ বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে।
- ৪। নাকের নিচের কালো অংশ (মাজল) ভেজা ভেজা থাকবে, মনে হবে যেন ফোঁটা ফোঁটা শিশির জমেছে।
- ৫। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে, অস্বস্থিতে ছটফট করবে না।
- ৬। গরু-মহিষের ক্ষেত্রে বয়স দুই বছরের বেশি এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি হতে হবে।
- ৭। সম্ভব হলে পশুর প্রস্রাব ও গোবর স্বাভাবিক কি না তা যাচাই করতে হবে।
- ৮। গর্ভবতী পশু কোরবানি দেওয়া যায় না। তাই কেনার আগে সেটা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
- ৯। সুস্থ পশুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হয়, তাই এটি দেখে নিতে হবে।
- ১০। গরু কিনতে চাইলে দেশীয় গরু কিনতে চেষ্টা করুন। কারণ সীমান্ত পার হয়ে আসা গরুগুলো অনেক দূর থেকে আসে বলে ক্লান্ত হয়। অনেক সময় সেগুলো ছোট-খাট আঘাতপ্রাপ্তও হয়। আর দুর্বল গরু সুস্থ নাকি অসুস্থ সেটা বোঝা বেশ কষ্টকর।
- ১১। পশু কেনার আগে এর শরীরের কোথাও ক্ষত আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন।
- ১২। শিং ভাঙা আছে কিনা, লেজ, মুখ, দাঁত, খুর এসব কিছুই পরীক্ষা করে দেখুন, কোন ত্রুটি চোখে পড়ে কিনা। এসব কিছুই লক্ষ্য করলে দেখবেন অতি সহজেই সুস্থ পশু কেনা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।
লেখকের মন্তব্য?
কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয় এ সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করা যায় যে উপরের লিখা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়লে কোরবানির পশু কেনার সময় কী কী দেখে নিতে হয় এটি নিয়ে আর কোনো দ্বিধা থাকবেনা। কোরবানি হলে মুসলমানদের একটি পবিত্র ও প্রধান দুই উৎসবের মধ্যে একটি। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এই দিনটিতে সকল সামর্থবান মুসলিমরা জায়েয পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। তাই এই পশুটি অবশ্যই নিখুঁত বা ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। ঠিক এই কারণেই আজকের এই আর্টিকেল - এই আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়লে নিখুঁত পশু নির্বাচনে আপনিও পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন।
লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই Comments করে জানিয়ে দিবেন,সবাইকে ধন্যবাদ আজকের মতো এখানেই বিদায় নিলাম হাজির হবো আরও নিত্য নতুন টিপস নিয়ে আমি রবিউল ইসলাম আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহু সর্বশক্তিমান
রবিউল নেটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url